৩ সন্তান রেখে প্রেমিকের স’ঙ্গে পালাল গৃহবধূ, এরপর…

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজে’লার শরীফপুরের গৃহবধূ খাদিজা বেগমের নিখোঁজে’র রহ’স্য উম্মোচন করেছে পু’লিশ। দীর্ঘদিন পরকীয়া প্রেম, হ’ত্যার নাটক সাজিয়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে অবশেষে পু’লিশের কাছে ধ’রা প’ড়েন খাদিজা ও তার প্রেমিক।

প্রেমিক আনোয়ারের সাথে পালিয়ে যাওয়ার আগে হ’ত্যাকাণ্ডের নাটক সাজাতেই নিজে’র চুল, ব্লেড ও কিছু র’ক্ত বাথরুমে ফে’লে যায় তিন সন্তানের জননী খাদিজা বেগম। খাদিজা বেগম নিখোঁজে’র পরই তার পরিবার থেকে হ’ত্যার অ’ভিযোগ উঠে স্বামী সোহেল মিয়ার বি’রুদ্ধে। এ ঘ’টনায় খাদিজার স্বামী সোহেল,

শ্বশুর হুমায়ূন কবির এবং শাশুড়ি হেলেনা বেগমকে আ’টক করে পু’লিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একদিন পর তাদেরকে ছে’ড়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে তিন সন্তানের জননী খাদিজা বেগম ও তার প্রেমিক আনোয়ার হোসেনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বাড়ি থেকে আ’টক করে পু’লিশ। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জে’ল হাজতে পা’ঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে পু’লিশ জা’নায়, গত ১০ বছর আগে আশুগঞ্জ উপজে’লার শরীফপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার হুমায়ুন কবিরের ছেলে ব্যবসায়ী সোহেলের সাথে বিয়ে হয় সদর উপজে’লার চিলোকুট গ্রামের আবুল কাসেম মিয়ার মেয়ে খাদিজা বেগমের। গত ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনে এই দম্পতির তিন সন্তান জ’ন্ম হয়।

ব্যবসার কারনে সোহেল মিয়া বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রীকে নিয়ে নরসিংদী জে’লার রায়পুর উপজে’লা আলগি বাজারের পাশে বাসা নিয়ে বসবাস ক’রতেন। গত ৭ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকের মাধ্যমে খাদিজার সাথে পরিচয় হয় ফেনী জে’লার দাগনভূইয়া উপজে’লার ইয়ার নুরুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে আনোয়ার হোসেনের স’ঙ্গে ।

দীর্ঘ প্রেমের পর গত ২ আগস্ট ভোরে শরীফপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় খাদিজা। পালিয়ে যাওয়ার সময় খাদিজা বেগম নিজে’র চুল কে’টে, একটি ব্লেড ও কিছু র’ক্ত বাথরুমে পাশে রেখে যায়। ভোরে শি’শুর কান্নার শব্দ শুনে স্বামী সোহেল স্ত্রীকে অনেক ডাকাডাকি করলেও আর পাওয়া যায়নি।

সকালে বিষয়টি জা’নাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘ’টনায় খাদিজার স্বামী সোহেল, শ্বশুর হুমায়ুন কবির এবং শ্বাশুড়ি হেলেনা বেগমকে আশুগঞ্জ থা’না পু’লিশ আ’টক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে ছে’ড়ে দেয়া হয়। ঘ’টনাটির কোনো ক্লু খুঁজে না পাওয়ায় পু’লিশ নানা দিক নিয়ে কাজ শুরু করেন। পু’লিশের একাধিক টিম চাঞ্চল্যকর ঘ’টনাটি উদঘাটনের জন্য মাঠে কাজ শুরু করেন।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদেরকে আ’টক করে পু’লিশ। পরে তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থা’নায় এনে স্বামী সোহেল ও তিন সন্তানকে খাদিজার সামনে আনা হলে স্বামী ও সন্তানদের অস্বী’কার করে খাদিজা। পরে পু’লিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বী’কার করেন আ’সল ঘ’টনা।

পু’লিশের জিজ্ঞাসাবাদে খাদিজা জা’নান, প্রায়ই বাবার বাড়ির কথা বলে প্রেমিক আনোয়ারের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেখা করতো খাদিজা। গত ঈদ উল ফিতরের পর প্রেমিক আনোয়ারের সাথে হুজুর দিয়ে বিয়েও পড়ান তারা। কিন্তু বিষয়টি স্বামী সোহেল মিয়া জানতেন না।

বাথরুমের পাশে চুল, র’ক্ত ও ব্লেড রাখার বিষয়ে খাদিজা বলেন, ঘ’টনাটিকে হ’ত্যাকাণ্ডে রূপ দেয়ার জন্য নিজে’র মাথার চুল, র’ক্ত ও ব্লেড রেখে যান তিনি। খাদিজা জা’নান, পারিবারিক কলহের জে’র ধ’রে স্বামীর সংসার থেকে চলে গেছেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন জা’নান, খাদিজা বিবাহিত ও তার তিন সন্তান রয়েছে বিষয়টি তিনি জানতেন না। খাদিজা তাকে জা’নিয়েছে সে অবিবাহিত। এজন্যই তাকে ভালোবেসে ফে’লে ন আনোয়ার। তবে হুজুর দিয়ে বিবাহ হলেও আদালতে গিয়ে বিবাহ ক’রতে চাননি খাদিজা। পু’লিশের কাছে আ’টক হওয়ার পর জানতে পারেন ভোটার আইডি কার্ডে স্বামীর নাম থাকায় সে আদালতে বিবাহ ক’রতে রাজি হননি।

এ ঘ’টনায় শুক্রবার সকালে খাদিজার স্বামী সোহেল মিয়া বাদী হয়ে কথিত প্রেমিক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি ও স্ত্রী খাদিজাকে দ্বিতীয় আসামি করে আশুগঞ্জ থা’নায় একটি মা’মলা দা’য়ের করেন। পরে সকালেই তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জে’ল হাজতে পা’ঠানো হয়।

ঘ’টনার সত্যতা নি’শ্চিত করে এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থা’নার ভারপ্রাপ্ত ক’র্মকর্তা জাবেদ মাহমুদ জা’নান, বিষয়টি খুবই চাঞ্চল্যকর ছিল যা সিনেমাকেও হার মানাবে। তিনি বলেন, তাদেরকে উ’দ্ধার করে জে’ল হাজতে পা’ঠানো হয়েছে।