মরুভূমির উট টাঙ্গাইলে, এক নজর দেখতে মানুষের ঢল!

সৌদি আরবের মরুভূমির উট এবার টাঙ্গাইলে। এই উট একনজর দে’খতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। শুধু এ গ্রামের মানুষ নয়।

আশে-পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে দে’খতে ছুটে আ’সছেন অনেকে।মরুভূমির এই উট স্ব-চোখে দে’খতে পেরে আনন্দিত উৎসুক জনতা। উটকে যারা দে’খতে আ’সছেন তাদের জন্য নি’রাপত্তার ব্যব’স্থাও করা হয়েছে। ঈদের দিন কোরবানি হবে এ উট।

আলোচিত এই উটটি কোরবানি দেয়ার জন্য কিনছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজে’লার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিলচা’পড়া গ্রামের মৃ’ত আইয়ুব আলী সরকারের ছেলে আব্দুল রশিদ সরকার (তুলা)। সে পেশায় একজন ঠিকাদার ও কা’বার পথে ট্যুরস ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ধ’র্মানুরাগী সমাজসেবক।

গরীবের ব’ন্ধু নামেও সকলের কাছে পরিচিত তিনি। রশিদ সরকার বলেন, আমা’র বাবার স্বপ্ন ছিল উট কোরবানি করার। যেতে চেয়ে ছিলেন মদিনায় হজ পা’লনে। কিন্তু যেতে পারেনি। এদিকে, প্রতিবারের ন্যায় এ বছর আমিও হজ ক’রতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ম’হামা’রি করো’না ভা’ইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই সেই অর্থ দিয়ে অনেক কষ্টে উটটি কিনেছি।

দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইচ্ছে ছিল সৌদি থেকেই আনার। কিন্তু করো’না র কারণে আনা যায়নি। এরপর দেশের সব বড় বড় হাট খোঁ’জাখুঁজি করে অবশেষে ঢাকার গাবতলি পশুর হাট থেকে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১১ লাখ ৫০ হাজার দিয়ে কেনা হয়। গোপালপুর থেকে উট দে’খতে আসা মো. রুবেল মিয়া বলেন, ফেসবুক, টিভি ও পাঠ্য বইয়ে অনেক দেখেছি, প’ড়েছি উটের গল্প।

কিন্তু বাস্তবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। গত বুধবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখে ভূঞাপুরের বিলচা’পড়া গ্রামে ছুটে এসেছি উটকে এক নজর দেখার জন্য। আ’সলে মরুভূমির এই উট বাস্তবে দে’খতে পাব কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি। সত্যিই অনেক ভাল লাগছে।

কালিহাতির উপজে’লার মো. মিজানুর রহমান বলেন, উট বাস্তবে দেখলাম আজ। ঈদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেল। এছাড়াও সৌদির মরভূমির উট দেখেও মনে বড় প্রশান্তি অ’নুভব করছি। স্থা’নীয় বাসিন্দা মো. আ’সলাম ও লিটন মিয়া বলেন- আমাদের এলাকায় এবারই এই প্রথম উট কোরবানি হচ্ছে। এরআগে কেউ উট কোরবানি দিতে পারেনি। কোরবানি এই উট দে’খতে আ’সছে শতশত মানুষ। আমাদেরও খুব ভাল লাগছে উট দে’খতে পেরে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা গেছে, মরুভূমি উটকে দে’খতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। সব বয়সি মানুষ উটের সাথে সেলফি ও ছবি উঠছে। কেউ ভিডিও নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফেসবুক লাইভও করছে। মানুষ যেন কোন ধ’রণের বিশৃ’ঙ্খলা না ক’রতে পারে সেজন্যও ক’রেছেন কড়া ব্যব’স্থা।

রশিদ সরকারের সাথে কথা বলে আরও জা’না গেছে, তিনি মনে করেন, তার এ উট কোরবানি গোশত স্থা’নীয় প্রতিবেশীদের মাঝে বন্টন করবেন। উট দেখাশোনা ও খাবার ব্যব’স্থার বিষয়ে তিনি বলেন, উটটিকে যে ব্যবসায়ী থেকে কেনা হয়েছে সে পাকিস্তান থেকে গত ২ বছর আগে ৩টি উট কিনে আনেন। পরে ২টি উট বিক্রি করেন।

রয়ে যায় আরও একটি। করো’না র কারণে এ বছর ওই ১টি উট বিক্রি ক’রতে না পেরে ক্রেতা সংক’টে প’ড়ে দিশে হারা প’ড়ে ছিলেন। আর আমিও উট কেনার জন্য অধির ছিলাম। গত কয়েকদিন আগে কেনা হয়। এই উটটিকে মূলত প্রায় ৩ বছর লালন-পা’লন করেন তারা। গরুকে যে খাবার খাওয়ানো হয় সেগুলোই স্বা’ভাবিকভাবে উটকে খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও কোনবানির আগ পর্যন্ত লালন-পা’লন করার জন্যও ওই ব্যবসায়ীর এক লোক নিয়মিত তার যত্ন করছেন।

তিনি আরও বলেন, উট কোরবানির পাশাপাশি গরুও কোরবানি করা হবে। এ উটকে আমি প্রথমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), আমা’র বাবা-মা, আমি ও স্ত্রী সন্তানদের নামে কোরবানি করব। চেষ্টা করব প্রতি বছর একটি করে উট কোরবানি করার জন্য। এজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।