যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মত জজ হলেন হিজাব’ধারী মুসলিম

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জজ হলেন হিজাবধারী একজন মুসলিম নারী। ৪০ বছর বয়সী রাফিয়া আরশাদ গত সপ্তাহে মিডল্যান্ডস সার্কিটের ডেপুটি জে’লা জজ হিসেবে নিযুক্ত হন। মাত্র ১১ বছর বয়সে দেখা আ’ইনে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ৩০ বছর পর পূর্ণতা পেল। তবে এর জন্য তাকে অনেক কাঠঘর পোহাতে হয়েছে। খবর মেট্রো ডট কমের।

সফলতার চূড়ায় আরোহণ করে তরুণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন স্বপ্ন নির্দিষ্ট থাকলে তারা তাদের মনকে একনিষ্ঠ করে যেভাবে হোক তা অর্জন ক’রতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমা’র চেয়ে বড়, আমি জানি এটি আমা’র স’স্পর্কে নয়। এটি কেবলমাত্র মুসলিম মহিলাদের জন্য নয়, সমস্ত মহিলাদের জন্য এটি গু’রুত্ব পূর্ণ, তবে এটি মুসলিম মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে গু’রুত্ব পূর্ণ।

এই সংবাদ যারা হিজাব পরিধান করে তাদের জন্য খুবই আনন্দঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকদিন চেষ্টার পর আমি জয়ী হয়েছি। এতে আমা’র চেয়ে আমা’র আশপাশে থাকা হিজাবধারী অন্যান্য মুসলিম মহিলা এবং আমা’র পরিবার বেশি খুশি হয়েছে। কারণ তারা এটির জন্য খুবই দু’শ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল। কেননা তারা ভেবেছিল, আমি ব্যারিস্টার হয়ে উঠতেও সক্ষম হবেন না। তাই বিচারক হওয়ার পথ যেন ছেড়ে দিই।’

যদিও রাফিয়ার পিছনে রয়েছে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের একটি পাওয়ার হাউস। তিনি বলেছেন, এখনও তাকে বৈষম্য এবং কুসংস্কারের মু’খোমুখি হতে হয়। মিডল্যান্ডসের বিচারকদের মধ্যেও এই বৈষম্য কাজ করছে। ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে বেড়ে ওঠা রাফিয়ার ক’র্মজীবনের জীবনের স’বচেয়ে গ’ভীর মু’হূর্তগু’লির মধ্যে একটি অভিজ্ঞতা হলো- যখন তাকে তার নিজে’র পরিবারের সদস্য দ্বারা স্কার্ফ পড়তে বা’ধা দেয়া হয়েছে। ইনস অফ কোর্ট স্কুলের স্কলারশিপের জন্য একটি সাক্ষাত্কারে তার হিজাব না পরিধান করার প’রামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

২০০১ সালে আ’ইন অফ ল’তে নাটকীয়ভাবে সাফল্য লাভ করেন তিনি। এরপর আত্মীয় থেকে শুরু করে বাড়ির সদস্যরা তাকে সাক্ষাৎকারে স্কার্ফ পরিধান ক’রতে নি’ষেধ করেন। কিন্তু জীবনের সাথে মিল খুঁজতে গিয়ে তিনি স্কার্ফ ছে’ড়ে দেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছিলাম যে আমি আমা’র মাথার স্কার্ফ পরে যাব। কারণ আমা’র পেশা অনুসরণ করার জন্য যদি আমাকে আ’লাদা ব্য’ক্তি হতে হয় তবে এটি আমা’র ইচ্ছা ছিল না। তাই আমি স্কার্ফ পরিধান করেছিলাম। আর আমি সাক্ষাত্কারে সফলও হয়েছি। আমাকে যথেষ্ট বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। আমি মনে করি এটি সম্ভবত আমা’র ক্যারিয়ারের স’বচেয়ে গ’ভীরতম পদক্ষে’পগু’লির মধ্যে একটি ছিল।

লন্ডনে প্রশিক্ষণের পরে রাফিয়াকে ২০০২ সালে ডেকে পা’ঠানো হয়েছিল এবং নটিংহামে শিক্ষা লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে সেন্ট মেরির ফ্যামিলি ল চেম্বারে যোগদান করেছিলেন। গত ১৫ বছর ধ’রে তিনি প্রাইভেটে অনুশীলন ক’রেছেন আ’ইনী শি’শু, জো’রপূর্বক বিবাহ বি’চ্ছেদ এবং ইসলামী আ’ইন সংক্রা’ন্ত যে কোনও মা’মলা নিয়ে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ইসলামী পারিবারিক আ’ইনে শী’র্ষস্থানীয় পাঠ্যের লেখকও হয়ে উঠেছেন রাফিয়া।